নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ
টানা চার দিনের অবিরাম বৃষ্টি আর মেঘলা আকাশ ভেদ করে অবশেষে সূর্যের দেখা মিলেছে নেত্রকোণায়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল গড়াতেই মেঘের ফাঁক গলে নামা রোদ হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে স্বস্তির বার্তা বয়ে আনে। তবে এই স্বস্তির মাঝেও কাটেনি বন্যার শঙ্কা এমনটাই জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
জেলার সুমাইখালী ও গণেশের হাওর ঘুরে দেখা গেছে, সকালে আকাশ ভারী থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের দেখা মেলে। আর সেই সুযোগে মাঠে নেমে পড়েছেন কৃষকেরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে কাটা ধান শুকানো এবং জমিতে পড়ে থাকা ধান দ্রুত ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। টানা বৃষ্টি, ঝড় ও বজ্রপাতের কারণে এতদিন যেসব ধান মাঠে পড়ে ছিল, সেগুলোও এখন দ্রুত কাটার চেষ্টা চলছে।
সুমাইখালী হাওরের কৃষক সিদ্দিক মিয়া জানান, টানা এক সপ্তাহ রোদ থাকলে ধান পুরোপুরি শুকিয়ে ঘরে তোলা সম্ভব। কিন্তু অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় ধান কাটতে বেগ পেতে হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকটও তীব্র। বাড়তি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হলেও নদ-নদীর পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।
পাউবোর তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সকাল জেলার পর্যন্ত কংস নদীর পানি জারিয়া-জাঞ্জাইল এলাকায় বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে কলমাকান্দার উব্দাখালী নদীর পানিও বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। নদীর পানি এখনো জনবসতিতে প্রবেশ না করলেও তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। পানি আরও বাড়লে তা বন্যায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে খালিয়াজুড়ির ধনু নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সুমেশ্বরী, মগড়া ও ধলাসহ জেলার অন্যান্য নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমলেও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে আপাতত রোদ দেখা গেলেও বন্যার ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে হাওরের পরিস্থিতি সহনীয় থাকলেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কৃষকেরা যাতে দ্রুত ধান কাটতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
