নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনার পূর্বধলায় সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাছুম মোস্তফার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের আতকাপাড়া এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বিকেলে একটি মাদ্রাসার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফেরার পথে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে থামেন সংসদ সদস্য। এ সময় মাগরিবের নামাজ আদায়ের জন্য পাশের মসজিদে গেলে বাইরে থাকা তাঁর গাড়িকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার দিকে মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন যুবক তেল নেওয়া নিয়ে পাম্পকর্মীদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তারা সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। নামাজ শেষে বাইরে বের হলে উপস্থিত লোকজনের একটি অংশ তাঁকে ধাওয়া দিয়ে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করে।
ঘটনার সময় ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা শুরুতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খান। পরে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে এবং সংসদ সদস্যকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।
সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী আল আমিন তালুকদার জানান, নামাজ চলাকালে হঠাৎ করেই গাড়ি ভাঙচুরের শব্দ শোনা যায়। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা ইশতিয়াক আহমেদ বাবুর নেতৃত্বে একদল লোক এমপির দিকে এগিয়ে এলে মুসুল্লিরা মসজিদের দরজা বন্ধ করে দেন। পরে হামলাকারীরা তাদের অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে।
সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা বলেন, পথে তেল নিতে পাম্পে থেমেছিলাম। মাগরিবের নামাজ আদায়ের সময় বাইরে ভাঙচুরের শব্দ শুনি। পরে দেখি, আমার গাড়িতে হামলা হয়েছে এবং আমাকে ঘিরে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার দাবি করেন, এ ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নয়। দলের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ আনা হচ্ছে।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সংসদ সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ ও সেক্রেটারি মো. বদরুল আমিন জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
