খালিয়াজুড়ির চাকুয়া গ্রামে শ্মশানঘাট উদ্বোধন 

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ

নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া গ্রামের সাহাপাড়ার উদ্যোগে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে নবনির্মিত শ্মশানঘাটের শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। সর্বস্তরের ভক্তবৃন্দের আন্তরিক প্রচেষ্টা, ত্যাগ ও ভক্তিভাবনার এক অনন্য প্রতিফলন হিসেবে এই উদ্যোগটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। 

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে এক পবিত্র, গম্ভীর ও ভক্তিময় পরিবেশে শ্মশানঘাটটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ্মশান কমিটির সভাপতি রাতুল রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুরুন্জ্ঞিত রায়ের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২নং চাকুয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ফুজলু মিয়া। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শ্মশানঘাটটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে সাহাপাড়ার ভক্তবৃন্দ, প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ ও ধর্মপ্রাণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। 

সভাপতির বক্তব্যে রাতুল রায় বলেন,

সনাতন ধর্মে শ্মশানঘাট শুধু দেহ দাহের স্থান নয়, এটি আত্মার মুক্তির এক পবিত্র দ্বার। এই শ্মশানঘাট আমাদের সেই চিরন্তন সত্যের প্রতীক। সাহাপাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে যা আমাদের ঐক্য, বিশ্বাস ও ভক্তির এক উজ্জ্বল নিদর্শন।  তিনি আরও বলেন,

আজকের এই দিনটি আমাদের সাহাপাড়ার জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও স্মরণীয়। অতীতে প্রিয়জনদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে গিয়ে আমরা নানা সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়েছি। এখন থেকে এই শ্মশানঘাটে ধর্মীয় মর্যাদা, শান্তি ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে শেষ বিদায় সম্পন্ন করা যাবে। শাস্ত্রে বর্ণিত ‘অন্ত্যেষ্টি সংস্কার’ আত্মার পরম যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এখন তা আমাদের এলাকাতেই সম্মানজনকভাবে সম্পন্ন হবে।

এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে যাঁরা শ্রম, সময় ও সহযোগিতা দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা সবাই মিলে এই পবিত্র স্থান সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকার করছি।

সাধারণ সম্পাদক সুরুন্জ্ঞিত রায় তার বক্তব্যে বলেন, এই শ্মশানঘাট আমাদের ধর্মীয় চেতনা, ভক্তি ও ঐক্যের প্রতীক। এটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং আত্মার মুক্তির পথচলার এক পবিত্র স্মারক। সাহাপাড়ার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আজ একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। 

প্রধান অতিথি ফুজলু মিয়া বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করে। একটি শ্মশানঘাট নির্মাণ নিঃসন্দেহে মহৎ কাজ, যা বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও কল্যাণ বয়ে আনবে।

অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ প্রার্থনা ও মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এই শ্মশানঘাট স্থাপনের মাধ্যমে সাহাপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি সম্মানজনক ও পবিত্র শেষকৃত্যের স্থান নিশ্চিত হলো যা স্থানীয়দের কাছে এক গর্বের অর্জন হয়ে থাকবে।

Leave A Comment